সততার মূর্তপ্রতীক,রাজনৈতিক মঞ্চের বটবৃক্ষ,কুড়েঘর নামে খ্যাত,গরীরের বন্ধুমুত্তিযুদ্ধ কালীন প্রবাসী সরকারের একমাত্র জীবিত উপদেষ্টা জীবন্ত কিংবদন্তী ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ

মমিনুর রহমান বুলবুল /শিক্ষক ও রাজনৈতিক

মুত্তিযুদ্ধ কালীন প্রবাসী সরকারের একমাত্র জীবিত উপদেষ্টা জীবন্ত কিংবদন্তী কুরেঁঘর মার্কায় গরীবের বন্ধু নামে খ্যাত ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ ১৯২২সালে ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলাধীন দেবিদ্বার উপজেলায় এলাহাবাদ গ্রামে এক মুসলিম ভুইয়া পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। বাবার নাম কেয়াম উদ্দিন মাষ্টার, মাতার নাম আকছারুন নেছা, স্ত্রী আমেনা আহমেদ এম, পি, একমাত্র কন্যা আই.ভি আহমেদ ও তার স্বামী নিয়ে ছোট্র একটি সংসার ।তিনি প্রয়াত বসন্ত কুমার দাস এর প্রিয় ছাত্র , প্রথমে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থণীতিতে অর্নাস সহ এম ,এ এবং ইউনেস্কো ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন।
রাজনীতি কখন শুরু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৩৭ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতি শুরু মহাতœা গান্ধী চান্দিনা আসবেন শুনে, বাড়ী থেকে পায়ে হেটে চান্দিনায় রওয়ানা হলাম ,গান্ধী আমি চিনতাম এক জাতীয় পোকা, যা গায়ে লাগলে ক্ষতি করে, চান্দিনায় গিয়ে দেখি , হাতে লাঠি , পরনে গামছা তার নাম মহাতœা গ্রান্ধী, ভারতের জাতির পিতা সেইদিন থেকে তার মনে রাজৗনতিক চেতনার জন্ম নেয় তিনি চট্রগ্রাম সরকারী কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আজিম পুর এলাকায় থাকতেন সেখানে খোকা রায়, অনীল মুখার্জী প্রমুখ নিয়ে ভাষা আন্দোলনকে সুসংগঠিত করেন ।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের হাতধরে জাতীয় রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী ১৯৫৪ সালে যুক্তফন্টের নির্বাচনেতৎকালীন ক্ষমতাশীল মুসলিম লীগের শিক্ষা মন্ত্রী মফিজুল ইসলাম কে পরাজিত করে সর্ব জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালিন পাকিস্তানী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ন্যাপ (ওয়ালী-মোজাফ্ফর)অন্যতম বামদল মস্কোপন্থী বলে পরিচিত, আর চীনা পন্থী নামে পরিচিত ছিল ন্যাপ ভাসানী কিন্তু ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ এর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, আতা খান আঃ রশিদ তর্কবাগীশ নেতাগন পাকিস্তানী পক্ষ ছেড়ে আসে নাই কিন্তু ১৯৫৭ সালে ৩রা এপ্রিল পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদে ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ সর্বপ্রথম বাংলার স্বায়ত্বশাসনের প্রস্তাব উৎথ্াপন করিলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাগন মোজাফ্ফর আহমেদ এর এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেন তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী আতা খান, খন্দকার মোস্তাক আহমেদ সংবাদ সমে¥লন করে জানতে চান আপনারা কি স্বাধীন হয়ে যেতে চান ? ঐ দিন একমাত্র শেখ মজিব মোজাফ্ফর আহমেদ এর এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। পরবর্তীতে শেখ মজিবের ৬ দফা সরাসরি সমর্থন করেন যা স্বাধীনতা সংগ্রামে মুলমন্ত্র / রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে ।
১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা সত্বেও পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের প্রস্তাব দিলে রাজনৈতিক মহলে হৈ চৈ শুরু হয়, মুসলিম লীগ মাত্র ৯ টি আসন পাইয়া নানা চক্রান্তে লিপ্ত হয় সংসদে মারামারি ঙহ ঃযব ভষড়ড়ৎ, ড়ভ ঃযব যড়ঁংব, ংঢ়বধশবৎ ঝধুবফ অষর ঢ়ধঃধিৎু ধিং সঁৎফবৎবফ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এই হৈ চৈ মারা মারি বিরুদ্ধে ছিলেন তারপরও ১৯৫৮ সালে আয়ুব সরকার তার বিরুদ্ধে হুলিয়া গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেন তাকে ধরিয়ে দিতে পুরুস্কার ঘোষনা করেন বাধ্য হয়ে আতœগোপনে চলে যান । আতœগোপনে থেকেও আয়ুবের বিরুদ্বে গন আন্দোলন গড়ে তোলেন ৬৬ সালে আবার ও প্রকশ্য রাজনীতিতে ফিরে আসেন ১৯৬৭ সালে পুর্ববাংলার ন্যাপ সভাপতি নির্বাচিত হন ৬৯ সালে আয়ুব বিরুধি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং কারাবরন করেন আযুব খান আহত রাওয়াল পিন্ডির গোলটেবিল বৈঠকে পূর্ববাংলার প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাধীনতা সংগ্রামে মুল নেতৃতের অন্যতম একজন। সেই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশ রকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যঃ অধ্যাপক মোজাফ্ফর ্আহমদ (ন্যাপ- মোজাফ্ফর) জীবিত
মহান মুক্তিযুদ্বে নেতৃত্বদান কারী দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল তিনি আজো ন্যাপ এর সভ্াপতি দায়িত্ব পালন করিতেছেন। মুক্তি সংগ্রামে ন্যাপ সি,পি,বি, ও ছাত্র ইউি কুমিল্লা জেলা নয়নের নিজস্ব ১৯০০০ মুক্তিযুদ্ধা নিয়ে গেরিলা বাহিনী গঠণে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এবং অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর নির্দেশে তার নিজ বাড়ীতে গেরিলাবাহিনী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু ছিল সেখানে মোঃ জাকির হোসেন (কুমিল্লা জেলা কমান্ড) হুমায়ন কবির মজুমদার , ওমর ফারুক (কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেযারম্যান)খলিলুর রহমান ফরিদ (মূত) মোস্তাফিজুর রহমান (ফুলমিয়া চেয়ারম্যান)বাচ্চু কমান্ডার ও সৈয়দ আহমেদ বাকের প্রমুখ
সে সময়ে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য ভারত, রশিয়া, ফ্রান্স কানাডা সহ পৃথিবীর বিভিণœ দেশে সফর করেন। এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
স্বধীনতার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন হতে বিপুল পরিমান ভোট পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হন। সংসদে বিরোধীদল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৯৮১ সালে ন্যাপ সিপিবি সহ সকল প্রগতিশীল শক্তির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আবারও কারা বরন করেন।
তিনি দেশপ্রেমিক কর্মী সৃষ্টি বা সুস্থ রাজনীতি বিকাশে নারায়নগঞ্জ মদনপুরে “সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদ” নামে একটি রাজনীতিক প্রশিক্ষন কেন্দ্র বা গবেষনাগার স্থাপন করেন। এই দেশে কোন পার্টির এ ধরনের কোন প্রশিক্ষন কেন্দ্র নেই।
তিনি বলেন, রাজনীতি ব্যবসা নয়, পেশাও নয়, রাজনীতি একটি ওয়াদা, বর্তমানে রাজনীতিতে কোন সৎ লোক নেই। তবে সুযোগের অভাবে কিছু লোক সৎ রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনীতিবিদ দের মানসিকতা পরিবর্তন দরকার। বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আমি হতাশ। কেউ আমাকে তথাকথিত কমিউনিস্ট ভেবে কমরেড বললে আমি বিব্রত হই।
রাজণীতিতে আসা জীবনের সবচেয়ে সফলতম ঘটনা বলে মনে করেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ। রাজনৈতিক জীবনে ব্যর্থতা বলে কিছু নেই বলে দাবী করেন। তিনি আজীবন বাম রাজনীতি করতে পেরেছেন বলে নিজেকে সফল এবং সার্থক মনে করেন। তাই তিনি কতটা সফল বা ব্যর্থ সে তর্ক এখন অবান্তর। কেননা বর্তমান বাংলাদেশে বড় বড় দলে যারা রাজণীতিতে আছেন তাদের বেশির ভাগই অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের ছাত্র। এটা তার জীবনের আর একটি অন্যতম সাফল্য।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *